এসএসসি রাসায়নিক বন্ধন ৫ম অধ্যায় জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (ক ও খ )
রাসায়নিক বন্ধন (Chemical Bond)
তথ্য কণিকা(Information)
মৌলিক গ্যাসের অণুসমূহ সাধারণত দ্বিপরমাণুক যেমন- O2, N2, F2, Cl2, Br2 ইত্যাদি।
কোনো কোনো মৌলের অণু দুইয়ের অধিক পরমাণু নিয়ে গঠিত হয়। যেমন O3, P4, S8
সব অণুতেই পরমাণুসমূহ এক বিশেষ আকর্ষণশক্তি দ্বারা পরস্পর আবদ্ধ থাকে, এ শক্তিকে বন্ধনশক্তি বলে।
ধাতু-অধাতু মিলে সাধারণত আয়নিক বন্ধন, অধাতু-অধাতু মিলে সমযোজী বন্ধন গঠন করে।
যোজ্যতা ইলেকট্রন: কোনো মৌলের সর্বশেষ প্রধান শক্তিস্তরের মোট ইলেকট্রন সংখ্যাকে সেই মৌলের যোজন ইলেকট্রন বা যোজ্যতা ইলেকট্রন বলে।
নিষ্ক্রিয় গ্যাস এবং এর স্থিতিশীলতা: '১৮' গ্রুপের মৌলসমূহকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলা হয়।
নিম্নে নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহের ইলেকট্রন বিন্যাস দেওয়া হলো :
He (2) : 1s2
Ne (10) : 1s2 2s2 2p6
Ar (18) : 1s2 2s2 2p6 3s2 3p6
Kr (36): 1s2 2s2 2p6 3s2 3p6 3d10 4s2 4p6
Xe (54) : 1s2 2s2 2p6 3s2 3p6 3d10 4s2 4p2 4p6 4d10 4f14 5s2 5p6
Rn (86) : 1s2 2s2 2p6 3s2 3p6 3d10 4s2 4p6 4d10 4f14 5s2 5p6 5d10 6s2 6p6
এইচএসসি আইসিটি দ্বিতীয় অধ্যায়ের কুইজ-কমিউনিকেশন সিস্টেম ও নেটওয়ার্কিং
অষ্টক ও দুই-এর নিয়ম:
বিভিন্ন মৌলের পরমাণুসমূহ নিজেদের মধ্যে ইলেকট্রন আদান-প্রদান এবং শেয়ারের মাধ্যমে পরমাণুসমূহের শেষ শক্তিস্তরে ২ টি ইলেকট্রন বিন্যাস লাভ করাকে দুই-এর নিয়ম বলে।
অথবা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আটটি ইলেকট্রনের বিন্যাস লাভ করে। এভাবে He - -এর বিন্যাস লাভ করাকে দুই-এর (duplet or duet) নিয়ম এবং যোজ্যতা স্তরে ৮ টি ইলেকট্রন বিন্যাস লাভ করাকে অষ্টক (octet) নিয়ম বলে।
রাসায়নিক বন্ধন গঠনের জন্য কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য আমাদের মনে রাখতে হবে--
✅১. কোনো মৌলের শেষ শক্তিস্তরের ইলেকট্রন অর্থাৎ যোজ্যতা ইলেকট্রন বন্ধন গঠনে অংশগ্রহণ করে।
✅২. প্রতিটি পরমাণুরই লক্ষ্য থাকে তার নিকটবর্তী নিষ্ক্রিয় মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাস লাভ করা।
✅৩. ১ থেকে ১৭ পারমাণবিক সংখ্যাবিশিষ্ট মৌলসমূহ বন্ধন গঠন করলে খুব সহজেই দুই-এর (duplet) বা অষ্টক (octet) নিয়ম মেনে চলে। তৃতীয় স্তরের সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণক্ষমতা ১৮ হওয়া সত্বেও কিছু মৌল উপরের তথ্যের ভিত্তিতে পরমাণুসমূহ বন্ধন গঠন করে এবং সে কারণেই একের প্রতি অন্যের আকর্ষণ বা আসক্তির সৃষ্টি হয়।
এসএসসি ইসলাস শিক্ষা(১,২)অধ্যায়ের কুইজ-শরিয়তের উৎস,আকাইদ ও নৈতিক জীবন
সুতরাং বলা যায় যে-যে আকর্ষণ বলের মাধ্যমে একটি পরমাণু অন্য পরমাণুর সাথে যুক্ত হয় তাকে রাসায়নিক বন্ধন বলে।
ক্যাটায়ন ও অ্যানায়ন:
পাশাপাশি সোডিয়াম ও নিয়নের ইলেকট্রন বিন্যাসের চিত্র আঁক। কীভাবে সোডিয়াম, নিয়নের ইলেকট্রন বিন্যাস লাভ করবে? Na -এর পারমাণবিক সংখ্যা 11।
তার শেষ শক্তিস্তরের একটি ইলেকট্রন ত্যাগের মাধ্যমে Na+ আয়নের আধান গঠন--
Na - e- Na+
2, 8, 1 2, 8
11 টি প্রোটনের আধান = +11
10 টি ইলেকট্রনের আধান = -10
মোট আধান= +1
যে সকল মৌলের শেষ শক্তিস্তর বা যোজ্যতা স্তরে কম সংখ্যক (১, ২, ৩) ইলেকট্রন থাকে সে সকল
মৌলের ইলেকট্রন পর্যায় সরণির একই পর্যায়ের অন্যান্য মৌলের তুলনায় নিউক্লিয়াস থেকে দূরে অবস্থান করে। ইলেকট্রনসমূহ নিউক্লিয়াসের সাথে দুর্বলভাবে আকর্ষিত থাকে।
এই মৌলসমূহ ইলেকট্রন অপসারণ করে দুই এর বা অষ্টক পূর্ণ অবস্থায় পরিণত হতে চায়।
যার ফলে এরা সহজেই ইলেকট্রন ত্যাগ করে। স্বাভাবিক অবস্থায় পরমাণুর ইলেকট্রন ও প্রোটন সংখ্যা সমান থাকে।একটি ইলেকট্রন ত্যাগের কারণে বিভিন্ন কক্ষপথে ইলেকট্রনের তুলনায় নিউক্লিয়াসে ধনাত্মক আধানের পরিমাণ এক একক বেড়ে যায়।
তখন এটি একক ধনাত্মক আধানযুক্ত পরমাণুতে পরিণত হয়। ধনাত্মক আধানযুক্ত পরমাণুকে ক্যাটায়ন বলে ।
দেখা যাচ্ছে ক্লোরিনের যোজ্যতা স্তরে ইলেকট্রন সংখ্যা ৭, মোট ইলেকট্রন সংখ্যা ১৭, অপর দিকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস আর্গনের ইলেকট্রন সংখ্যা ১৮, যোজ্যতা স্তরে ইলেকট্রন সংখ্যা ৮। আর্গনের ইলেকট্রন বিন্যাস লাভ করতে হলে ক্লোরিনের আরও একটি ইলেকট্রন প্রয়োজন।
Cl- আয়নের আধান গঠন-
Cl + e- Cl-
2, 8, 7 2, 8, 8
17 টি প্রোটনের আধান = +17
18 টি ইলেকট্রনের আধান = -18
মোট আধান = -1
একটি ইলেকট্রন গ্রহণ করে ক্লোরিন পরমাণু একক ঋণাত্মক আধানযুক্ত ক্লোরাইড আয়নে পরিণত হয়।ঋণাত্মক আধানযুক্ত পরমাণুকে অ্যানায়ন বলে।
ইলেকট্রন আদান-প্রদানের মাধ্যমে গঠিত ক্যাটায়ন (ধনাত্মক আয়ন) এবং অ্যানায়নসমূহ (ঋণাত্মক আয়ন) যে আকর্ষণ বল দ্বারা যৌগের অণুতে আবদ্ধ থাকে তাকে আয়নিক বন্ধন বলে।
চেনার উপায়: ধাতু+ অধাতু= আয়নিক বন্ধন
যেমন:MgO,NaCl
৫ম অধ্যায়ের উপর আরো পড়ুন: রাসায়নিক বন্ধন ৫ম অধ্যায় জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
সমযোজী বন্ধন: সর্বশেষ শক্তিস্তরে স্থায়ী ইলেকট্রন বিন্যাস লাভের জন্য ইলেকট্রন শেয়ারের মাধ্যমে যে বন্ধন গঠিত হয়, তাকে সমযোজী বন্ধন বলে।
চেনার উপায়: অধাতু+ অধাতু= সমযোজী বন্ধন
যেমন: H2O, NH3, CO2 এবং CH4
সমযোজী বন্ধনে গঠিত মৌলিক অণুকে (যেমন O2) সমযোজী অণু এবং যৌগকে সমযোজী যৌগ (যেমন CO2 ) বলে।
কিছু সমযোজী অণু কম তাপমাত্রায় গ্যাসীয় অবস্থায় থাকে (CO2, CH4, NH3 ইত্যাদি) কিছু তরল অবস্থায় থাকে (H2O, C2H5OH ; ইথানল ইত্যাদি)
এবং কিছু কঠিন অবস্থায় থাকে {সালফার (S8), আয়োডিন (I2) ইত্যাদি}। এদের অণুসমূহ দুর্বল ভ্যানডার ওয়ালস
(van der Waals) শক্তি দ্বারা আবদ্ধ থাকে যা কম তাপমাত্রায় ভেঙে যায়। ঈঙ২, ঈঐ৪, ঘঐ৩ ইত্যাদির অণুসমূহের মধ্যে ভ্যানডার ওয়ালস (van der Waals ) শক্তি নেই বললেই চলে, যার ফলে এরা গ্যাসীয় অবস্থায় একক অণু হিসেবে ঘুরে বেড়ায়।
চিনির আণবিক সংকেত : C12H22O11
ধাতব বন্ধন: ধাতব পরমাণুসমূহ যে আকর্ষণবল দ্বারা পরস্পরের সাথে আবদ্ধ থাকে তাকে ধাতব বন্ধন বলে ।
চিত্র : ধাতব কেলাসে আয়ন ও ইলেকট্রন
জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নগুলোর উত্তরসমূহ:
আমাদের ওয়েবসাইট ও চ্যানেলে তোমাদের স্বাগতম । আমরা প্রতিনিয়ত সকল বোর্ডের প্রশ্নের সমাধান দিয়ে থাকি । তোমাদের যে কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট বক্সে দিতে পার । আমরা উত্তর দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। পরবর্তিতে সকল প্রশ্নের ব্যাখ্যাসহ সমাধান আপলোড দেব । পড়ার টেবিল নামের পুরো একটা লাইব্রেরী! এত বই পড়ে কি লাভ? যদি কমন না আসে এত বই পড়ার পরেও!
শিক্ষার্থীদের হতাশা থেকে মুক্তির পথে,আমরা শতভাগ (১০০%) কমনের নিশ্চয়তায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ!
বিকল্পধারায় সহজ থেকেও সহজতর পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উপহার স্বরুপ শিক্ষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, CQ, MCQ,মডেল টেষ্ট, সৃজনশীল প্রশ্ন+উত্তর ও ভিডিও ক্লাস। সম্পুর্ণ ডিজিটাল পথে শিক্ষার্থীদের সফলতার সর্বোচ্চ চুড়ায় পৌঁছে দিতে আমাদের এই উদ্বেগ।
পেজ সূচিপত্র (জ্ঞানমূলক প্রশ্নগুলো)
পেজ সূচিপত্র (অনুধাবনমূলক প্রশ্নগুলো)
জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক অংশ
প্রশ্ন ১। যোজ্যতা ইলেকট্রন কাকে বলে?
[কু, বো, ২০, ১, চ. বো. ১৬; ব, বো. ১৬]
উত্তর : কোনো মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাসে সর্বশেষ কক্ষপথে যে ইলেকট্রন বা ইলেকট্রনসমূহ থাকে তার সংখ্যাকে যোজ্যতা ইলেকট্রন বলে।
প্রশ্ন ২। সুপ্ত যোজনী কাকে বলে?
[ বো. কু. বো. '22]
উত্তর : কোনো মৌলের সর্বোচ্চ যোজনী ও সক্রিয় যোজনীর পার্থক্যকে সুপ্ত যোজনী বলে।
প্রশ্ন ৩। যোজনী কাকে বলে?
[দি বো, '২১]
উত্তর : অণু গঠনকালে কোনো মৌলের একটি পরমাণুর সাথে অপর একটি মৌলের পরমাণু যুক্ত হওয়ার ক্ষমতাকে যোজনী বা যোজ্যতা বলা হয়।
প্রশ্ন ৪। যৌগমূলক কাকে বলে?
[চা, বো, '১৭; রা. বো. ২১; সি. বো. '২১; দি. বো. ১৯]
উত্তর : একাধিক মৌলের কতিপয় পরমাণু বা আয়ন পরস্পরের সাথে মিলিত হয়ে ধনাত্মক বা ঋণাত্মক আধানবিশিষ্ট একটি পরমাণুগুচ্ছ তৈরি করে এবং এটি একটি মৌলের আয়নের ন্যায় আচরণ করে; এ ধরনের পরমাণুগুচ্ছকে যৌগমূলক বলে ।
প্রশ্ন ৫। ম্যাগনেশিয়া ও অ্যালুমিনার সংকেত লিখ ।
উত্তর : ম্যাগনেশিয়ার সংকেত MgO এবং অ্যালুমিনার সংকেত ALO
প্রশ্ন ৬। গাঠনিক সংকেত কাকে বলে?
[(ঢা. বো. '২২]
উত্তর :একটি অণুতে মৌলের পরমাণুগুলো যেভাবে সাজানো থাকে প্রতীক এবং বন্ধনের মাধ্যমে তা প্রকাশ করাকে গাঠনিক সংকেত বলে।
প্রশ্ন ৭। তুঁতের সংকেত কী?
উত্তর : তুঁতের সংকেত হলো CuSO4.5H2O
প্রশ্ন ৮। ফসফরাস (P) অণুতে কয়টি পরমাণু বিদ্যমান?
উত্তর : ফসফরাস (P) অণুতে চারটি (Pa) পরমাণু বিদ্যমান ।
প্রশ্ন ৯। অষ্টক নিয়ম কী?
উত্তর :বিভিন্ন মৌলের পরমাণুসমূহ নিজেদের মধ্যে ইলেকট্রন আদান-প্রদান এবং শেয়ারের মাধ্যমে পরমাণুসমূহের শেষ শক্তিস্তরে ৮ টি ইলেকট্রন বিন্যাস লাভ করাকে অষ্টক নিয়ম বলে।
প্রশ্ন ১০। দুই এর নিয়ম কী?
বিভিন্ন মৌলের পরমাণুসমূহ নিজেদের মধ্যে ইলেকট্রন আদান-প্রদান এবং শেয়ারের মাধ্যমে পরমাণুসমূহের শেষ শক্তিস্তরে ২ টি ইলেকট্রন বিন্যাস লাভ করাকে দুই-এর নিয়ম বলে।
প্রশ্ন ১১। রাসায়নিক বন্ধন কাকে বলে?
উত্তর : যে আকর্ষণ বলের মাধ্যমে একটি পরমাণু অন্য পরমাণুর সাথে যুক্ত হয় তাকে রাসায়নিক বন্ধন বলে।
প্রশ্ন ১২। অ্যানায়ন কাকে বলে?
উত্তর : ঋণাত্মক চার্জযুক্ত পরমাণুকে অ্যানায়ন বলে ।
প্রশ্ন ১৩। ক্যাটায়ন কী?
[ঢা বো. ১৫, ব, বো, ২২, ২য. বো. ২১]
উত্তর : ধনাত্মক চার্জযুক্ত পরমাণুকে ক্যাটায়ন বলে ।
প্রশ্ন ১৪। আয়ন কাকে বলে?
সি. বো. ২১, '১৯]
উত্তর : রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় যেসব পরমাণু বা পরমাণুগুচ্ছ (মূলক) এক বা একাধিক ইলেকট্রন গ্রহণ বা বর্জনের মাধ্যমে ঋণাত্মক বা ধনাত্মক চার্জগ্রস্ত হয়, তাদেরকে আয়ন বলা হয়।
প্রশ্ন ১৫। আয়নিক বন্ধন কাকে বলে?
[য. বো. ২১; কু. বো. ১৭. দি. বো. ২১]
উত্তর : ইলেকট্রন আদান-প্রদানের মাধ্যমে গঠিত ক্যাটায়ন ও অ্যানায়নসমূহ যে আকর্ষণ বল দ্বারা যৌগের অণুতে আবদ্ধ থাকে তাকে আয়নিক বন্ধন বলে
প্রশ্ন ১৬। NaCl যৌগ কোন ধরনের বন্ধন গঠন করে?
উত্তর : NaCl যৌগ আয়নিক বন্ধন গঠন করে।
প্রশ্ন ১৭। ধাতু-অধাতু মিলে সাধারণত কোন ধরনের বন্ধন গঠন করে?
উত্তর : ধাতু-অধাতু মিলে সাধারণত আয়নিক বন্ধন গঠন করে। পাঠ।
প্রশ্ন ১৮। সমযোজী বন্ধন কাকে বলে?
[য. বো. '২১]
উত্তর : বহিঃস্থ স্তরে ইলেকট্রনের শেয়ারের মাধ্যমে যে বন্ধন গঠিত হয় তাকে সমযোজী বন্ধন বলে ।
প্রশ্ন ১৯। মুক্তজোড় ইলেকট্রন কাকে বলে?
উত্তর : কোনো পরমাণুর যোজ্যতা স্তরের যে ইলেকট্রনগুলো বন্ধন গঠনে অংশগ্রহণ করে না তাদেরকে মুক্ত জোড় ইলেকট্রন বলে ।
প্রশ্ন ২০। H2O অণুর আকৃতি কিরূপ?
উত্তর : H2O অণুর আকৃতি কৌণিক ।
প্রশ্ন ২১। ভ্যান্ডার ওয়ালস বল কী?
উত্তর : অণু গঠনকালে কোনো মৌল ইলেকট্রন গ্রহণ, বর্জন অথবা শেয়ারের মাধ্যমে তার সর্বশেষ শক্তিস্তরে ৪টি (৮) করে ধারণের মাধ্যমে নিকটস্থ নিষ্ক্রিয় গ্যাসের ইলেকট্রন বিন্যাস লাভ করাকে অষ্টক নিয়ম বলা হয় ।
প্রশ্ন ২২। ইলেকট্রন শেয়ারের মাধ্যমে কোন ধরনের বন্ধন গঠিত হয়?
উত্তর : ইলেকট্রন শেয়ারের মাধ্যমে সমযোজী বন্ধন গঠিত হয়।
প্রশ্ন ২৩। CO2 অণুর আকৃতি কীরূপ?
উত্তর : CO2 অণুর আকৃতি সরল রৈখিক ।
প্রশ্ন ২৪। মিথেন (CH4) অণুর আকৃতি কীরূপ?
উত্তর : মিথেন (CH4) অণুর আকৃতি চতুস্তলকীয় ।
প্রশ্ন ২৫। পানির অণুতে কয়টি মুক্ত জোড় ইলেকট্রন আছে?
উত্তর : পানির অণুতে 2 (দুই) টি মুক্ত জোড় ইলেকট্রন আছে।
প্রশ্ন ২৬। অ্যামোনিয়ার অণুর আকৃতি কীরূপ?
উত্তর : অ্যামোনিয়ার অণুর আকৃতি ত্রিকোণীয় পিরামিড ।
প্রশ্ন ২৭। সমযোজী যৌগ কাকে বলে?
[রা. বো. '২১]
উত্তর : যেসব যৌগে ইলেকট্রন শেয়ারের মাধ্যমে বন্ধন তথা সমযোজী বন্ধন গঠিত হয়, সেই যৌগকে সমযোজী যৌগ বলে।
প্রশ্ন ২৮। পোলারিটি কী?
[ম. বো. ২২]
উত্তর : সমযোজী যৌগের অণুতে বন্ধনে আবদ্ধ পরমাণুগুলোর তড়িৎ ঋণাত্মকতার পার্থক্যের কারণে অণুতে আংশিক ধনাত্মক ও আংশিক ঋণাত্মক চার্জবিশিষ্ট প্রান্তের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনাকে বলা হয় পোলারিটি।
প্রশ্ন ২৯। পোলার যৌগ কী?
উত্তর : যেসব যৌগ দ্রাবকে দ্রবীভূত অবস্থায় ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আয়নে বিয়োজিত হয়, তারা পোলার যৌগ।
প্রশ্ন ৩০ । আয়নিক যৌগ কী?
উত্তর : ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আয়ন পরস্পর আকর্ষণের ফলে যে বন্ধনের সৃষ্টি হয়, তাকে আয়নিক বন্ধন বলে এবং আয়নিক বন্ধন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে আয়নিক যৌগ বলে।
প্রশ্ন ৩১। কেলাসাকার পদার্থ কী?
উত্তর : যেসব কঠিন পদার্থে অণু, পরমাণু বা আয়নগুলো নিয়মিত সুশৃঙ্খল উপায়ে ত্রিমাত্রিক গঠনে বিন্যস্ত থেকে জ্যামিতিক আকৃতি গঠন করে তাদেরকে কেলাসাকার পদার্থ বলে ।
প্রশ্ন ৩২। ধাতব বন্ধন কাকে বলে ?
[ঢা. বো. ১৯; রা. বো. ১৬; কু. বো. ’২২, '২১, '১৬, '১৫; চ. বো. '২১, সি. বো. ২০; ব. বো. ২০]
উত্তর : একখণ্ড ধাতুর মধ্যে পরমাণুসমূহ যে আকর্ষণের মাধ্যমে যুক্ত থাকে তাকেই ধাতব বন্ধন বলে।
প্রশ্ন ৩৩। সঞ্চরণশীল ইলেকট্রন কাকে বলে?
[সি. বো. ’২১]
উত্তর : ধাতব পরমাণু কর্তৃক ত্যাগকৃত ইলেকট্রনগুলো পারমাণবিক শাঁসের মধ্যবর্তী স্থানে মুক্তভাবে ঘোরাফেরা করলে সেই ইলেকট্রনকে সঞ্চরণশীল ইলেকট্রন বলে ।
প্রশ্ন ৩৪। পারমাণবিক শাঁস কাকে বলে?
উত্তর : ধাতুতে পরমাণুসমূহ তার সর্বশেষ শক্তিস্তরের এক বা একাধিক ইলেকট্রনকে ত্যাগ করে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়; এই ধনাত্মক আয়নকে পারমাণবিক শাঁস বলা হয় ।
প্রশ্ন ৩৫। ধাতব খণ্ডে তড়িৎ পরিবাহিতার জন্য কে দায়ী?
উত্তর : ধাতব খণ্ডে তড়িৎ পরিবাহিতার জন্য দায়ী হচ্ছে সঞ্চরণশীল ইলেকট্রন ।
প্রশ্ন ৩৬। ভ্যানডার ওয়ালস আকর্ষণ বল কী?
উত্তর : দুটি সমযোজী অণু যখন খুবই নিকটবর্তী হয় তখন তাদের মধ্যে এক ধরনের দুর্বল আকর্ষণ বল কাজ করে; এই আকর্ষণ বলকেই ভ্যানডার ওয়ালস আকর্ষণ বল বলে ।
অনুধাবনমূলক প্রশ্নগুলো
প্রশ্ন ১। পরিবর্তণশীল যোজনী ব্যাখ্যা কর।
উত্তর :
প্রশ্ন ২। SO, এ সালফারের সুপ্ত যোজনী শূন্য- ব্যাখ্যা কর।
[চা. বো. ২২]
উত্তর : কোনো মৌলের সর্বোচ্চ যোজনী ও সক্রিয় যোজনীর পার্থক্যকে ঐ মৌলের সুপ্ত যোজনী বলে । SO, যৌগে S এর সক্রিয় যোজনী 6 এবং S এর সর্বোচ্চ যোজনীও 6।
সুতরাং SO3 যৌগে S এর সুপ্ত যোজনী = 6-6=01
প্রশ্ন ৩। CO যৌগে কার্বনের সুপ্ত যোজনী- ব্যাখ্যা কর।
[য. বো. ২১]
উত্তর : কোনো মৌলের সর্বোচ্চ যোজনী ও সক্রিয় যোজনীর পার্থক্যকে ঐ মৌলের সুপ্ত যোজনী বলে। CO যৌগে কার্বন (C) এর সক্রিয় যোজনী 2 । কিন্তু C এর সর্বোচ্চ যোজনী 4
সুতরাং, CO যৌগে কার্বনের সুপ্ত যোজনী = 4 - 2 = 21
প্রশ্ন ৪। অক্সিজেনের যোজনী ও যোজনী ইলেকট্রন সমান নয়- ব্যাখ্যা কর।
[য. বো. '২২]
উত্তর : কোনো অধাতব মৌলের সর্বশেষ কক্ষপথে বিজোড় ইলেকট্রন সংখ্যাকে ঐ মৌলের যোজনী বলে। অক্সিজেনের ইলেকট্রন বিন্যাস নিয়ে পাই
O(8) ⇒ 1s2 2s2 p 4
2টি বিজোড় ইলেকট্রন
অক্সিজেন হলো একটি অধাতু এবং এর শেষ কক্ষপথে বিজোড় ইলেকট্রন সংখ্যা 2। সুতরাং অক্সিজেনের যোজনী 2। আবার, কোনো মৌলের সর্বশেষ প্রধান শক্তিস্তরের মোট ইলেকট্রন সংখ্যাকে সেই মৌলের যোজ্যতা ইলেকট্রন বলে। ইলেকট্রন বিন্যাস হতে দেখা যায় যে, অক্সিজেনের সর্বশেষ প্রধান শক্তিস্তরে ইলেকট্রন সংখ্যা হলো (2 + 4) = 6টি। অর্থাৎ যোজ্যতা ইলেকট্রন 6 ।
সুতরাং অক্সিজেনের যোজনী ও যোজনী ইলেকট্রন যথাক্রমে 2 ও 6, যা
সমান নয়।
প্রশ্ন ৫। “নাইট্রোজেনের যোজনী ও যোজ্যতা ইলেকট্রন ভিন্ন” ব্যাখ্যা কর।
[ঢা বো. ১৯]
উত্তর : নাইট্রোজেন পরমাণুর যোজনী ও যোজ্যতা ইলেকট্রন ভিন্ন হয় । এর কারণ যোজনী হলো কোনো মৌল অপর মৌলের সাথে যুক্ত হওয়ার ক্ষমতা। কিন্তু যোজ্যতা ইলেকট্রন হলো মৌলের বহিঃশ্বস্তরের মোট ইলেকট্রন সংখ্যা ।
N এর ইলেকট্রন বিন্যাস হচ্ছে, N(7) :
1s2 2s2 2px 2py1 2p21.
N এর বহিঃস্থ স্তরে ৩টি অযুগ্ম ইলেকট্রন রয়েছে।
ফলে নাইট্রোজেন মৌলটি একযোজী কোনো মৌলের তিনটি পরমাণুর সাথে যুক্ত হওয়ার ক্ষমতা রাখে। সংজ্ঞানুসারে, নাইট্রোজেনের যোজনী তিন । অপরদিকে নাইট্রোজেনের সর্বশেষ শক্তিস্তরে মোট 5টি ইলেকট্রন থাকায় এর যোজ্যতা ইলেকট্রন 5। সুতরাং, দেখা যাচ্ছে, N এর যোজনী 3 এবং যোজ্যতা ইলেকট্রন 5, যা ভিন্ন ।
প্রশ্ন ৬। 11Na ও 17C] এর যোজনী একই কেন ?
[ব. বো. [২২]
উত্তর : কোনো পরমাণু তার যোজ্যতা স্তর থেকে যতটি ইলেকট্রন দান করে অথবা যতটি ইলেকট্রন গ্রহণ করে অষ্টক পূর্ণ করে অধ্যাসেটি হলো ঐ মৌলের যোজনী । Na(11) ও Cl(17) এর ইলেকট্রন বিন্যাস :
অর্ডিনেট আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url